উসমানীদের সর্বোচ্চ মাদ্রাসার সিলেবাস

রাজনৈতিক অগ্রগতির সাথে সাথে উসমানীদের শিক্ষাব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো। পাড়ায় থাকতো ছোট মক্তব-স্কুল, বিভিন্ন অঞ্চলে থাকতো বড় বড় মাদ্রাসা– যেখানে শুধু ইসলামি জ্ঞানই নয়, বরং ভু-তত্ত্ব, গণিত, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, দর্শন প্রভৃতি শেখানো হতো। [১] তাদের মাদ্রাসাগুলোর দেয়ালে খোদাই করে লেখা থাকতো-

“এখানে আমরা কোনো মাছকে উড়তে, কিংবা পাখিকে সাঁতার কাটতে শেখাবো না।” [২]

১৫৬৫ সালের সুলতানি আদেশ অনুযায়ী উসমানীদের রাষ্ট্রীয় মাদ্রাসার সর্বোচ্চ লেভেল পাশ করতে ছাত্রদের ৩৯টি কিতাব অধ্যয়ন করতে হতো! [৩] এর মধ্যে রয়েছে–

  • তাফসিরের ১২টি কিতাব
  • হাদিসের ১২টি কিতাব
  • উসুলুল ফিকহের ৫টি কিতাব
  • ফুরু’ল ফিকহের ৭টি কিতাব
  • আরবি অভিধান ৩টি

এই মাদ্রাসাগুলো থেকে পাশ করে ছাত্ররা কাযি (বিচারক), মুফতি, শিক্ষক বা কূটনৈতিক হতেন। তাছাড়া মানতিক, কালাম, লুগাহ প্রভৃতিতে নিচের লেভেলে পড়ানো হতো।

এবার একনজরে কিতাবগুলোর নাম দেখে নেওয়া যাক–

##তাফসির (কুরআন শরিফের ব্যাখ্যা)

[১] যামখাশারির “কাশশাফ”

[২] কুতুবুদ্দিনের কাশশাফের ব্যাখ্যা

[৩] তাফতাযানির কাশশাফের ব্যাখ্যা

[৪] সারাপারদির কাশশাফের ব্যাখ্যা

[৫] তিবির কাশশাফের ব্যাখ্যা

[৬] বায়যাবির “আনওয়ার আল-তানযিল ওয়া আসরার আল-তাউইল”

[৭] নুরুদ্দিন আল-কারামানির বায়যাবির তাফসিরের ব্যাখ্যা

[৮] জালালুদ্দিন সুয়ুতির “আল-দুররুল মনসুর”

[৯] আল-কুরতুবির “আল-জামি ফি আহকামিল কুরআন”

[১০] আন-নাসাফির “আল-তাইসির আল-তাফসির”

[১১] আল-কাসহানির “তা’উইলাত আল-কুর’আন”

[১২] আল-ইশফাহানির “আনওয়ার আল-হাকাইক আর-রব্বানিয়্যাহ”

##হাদিস

[১৩] ইমাম বুখারির সহিহ

[১৪] সহিহ বুখারির উপর কিরমানির ব্যাখ্যা

[১৫] সহিহ বুখারির উপর ইমাম-আইনির ব্যাখ্যা

[১৬] সহিহ বুখারির উপর ইবনে হাজরের ব্যাখ্যা

[১৭] আল-বাগাউইর “মাসাবিহ আল-সুন্নাহ”

[১৮] বাগাউইর “মাসাবিহ আল-সুন্নাহ”র উপর যাইনুদ্দিনের ব্যাখ্যা

[১৯] বাগাউইর “মাসাবিহ আল-সুন্নাহ”র উপর যাইদানির ব্যাখ্যা

[২০] বাগাউইর “মাসাবিহ আল-সুন্নাহ”র উপর সাখুমির ব্যাখ্যা

[২১] “মিশকাত আল-মাসাবিহ” এর উপর তিবির ব্যাখ্যা

[২২] ইবনে আছিরের “জামি আল-উসুল”

[২৩] সহিহ মুসলিম

[২৪] সহিহ মুসলিমের উপর ইমাম নববির ব্যাখ্যা

##উসুলুল ফিকহঃ (ইসলামি আইনশাস্ত্রের নীতিমালা)

[২৫] সাদর আল-শারি’আহ আল-বুখারির “তাউইয”

[২৬] সাদর আল-শারি’আহর “তানকিহ আল-উসুল” এর উপর তাফতাযানির ব্যাখ্যা।

[২৭] তাফতাযানির “তালউইহ”-এর উপর হাসান সেলেবির ব্যাখ্যা।

[২৮] পাযদাবি/বাযদাবির “আল-উসুল”

[২৯] পাযদাবি/বাযদাবির “আল-উসুল” এর উপর আলাউদ্দিন বুখারির ব্যাখ্যা।

##ফুরু আল-ফিকহ (মাসআলা-মাসায়েল)-

[৩০] আল-মারগিনানির “হিদায়াহ”

[৩১] আল-মারগিনানির “হিদায়াহ” এর উপর আল-সিগনাকির ব্যাখ্যা

[৩২] আল-মারগিনানির “হিদায়াহ” এর উপর আল-ইতকানির ব্যাখ্যা

[৩৩] আল-মারগিনানির “হিদায়াহ” এর উপর আল-বাবারতির ব্যাখ্যা

[৩৪] নাসাফির “কানযুদ দাকাইক”-এর উপর যাইলা’ইর ব্যাখ্যা

[৩৫] কাযিখানের ফতওয়া

[৩৬] ইফতিখার আল-বুখারির “খুলাসাত আল-ফতওয়া”

##আরবি অভিধান

[৩৭] ফিরুজবাদির “কামুস”

[৩৮] ফারাবির “আল-সিহাহ ফিল লুগাহ”

[৩৯] “তায আল-আসমা” (লেখক অজানা)

(উল্লেখ্য এখানে শারহ, হাশিয়া, তা’লিক ইত্যাদি আলাদা করা হয়নি। সাধারণ টার্ম হিসেবে “ব্যাখ্যা” ব্যবহার করা হয়েছে।)


রেফারেন্স-

[১] https://muslimheritage.com/uploads/madrasas.pdf

[২] https://azprojects.wordpress.com/2019/02/17/teaching-fish-to-fly/

[৩] https://www.facebook.com/LostIslamicHistory/posts/1651615844946122

অনুবাদ/সংকলন- ফারশিদ খান

Photo: Source

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *