নারীদের মসজিদে সালাত- অতীত ও বর্তমান

প্রারম্ভিকাঃ রাসুলুল্লাহ (সা) এর যুগে নারীরা মসজিদে সালাত আদায় করতেন এবং তিনি কখনো নিষেধ করেননি, বরং তাঁরা অনুমতি চাইলে তাদের যেতে বারণ করতে মানা করেছেন। তবে হাদিস থেকে এটাও সাব্যস্ত যে নারীদের ঘরে সালাত আদায় করা অধিক উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা) এর মৃত্যুর পর পরিস্থিতির অবনতি হলে পরবর্তীতে উমার (রা) এবং আয়েশা (রা) থেকে এই ব্যাপারে কিছুটা কঠোরতা দেখা যায়। এর ভিত্তিতে হানাফি আলেমগণ অন্যান্য মাযহাবের তুলনায় অধিকতর বাঁধানিষেধ আরোপ করেছেন। তবে মুলগতভাবে নারীদের মসজিদে যাওয়া ‘জায়েজ’ হবার কারণে এখানে পরিস্থিতিভেদে প্রায়োগিকতার বিষয় রয়েছে এবং ফিতনা-সংক্রান্ত আলোচনার নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট রয়েছে। এই ব্যাপারে আল্লামা তাকি উসমানির ছাত্র মুফতি ইবনে আদম আল কাওসারি (হাফিযাহুল্লাহ) একটি ফতওয়াতে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ এবং বর্তমান প্রায়োগিকতা নিয়ে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এই লেখায় সেটার উল্লেখযোগ্য অংশের অনুবাদ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই লেখার উদ্দেশ্য আলোচ্য বিষয়ে একজন প্রসিদ্ধ মুফতির দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করা। আর স্থান-কাল-পাত্র অনুসারে উপযুক্ত ফতওয়া নির্ধারণ করবেন যোগ্য আলেমগণ।

(অন্যান্য ক্লাসিক্যাল মাযহাব এবং সাম্প্রতিক আলেমদের মতামত নিয়ে লেখার শেষে পরিশিষ্টে আলোচনা আছে)


মূল- মুফতি ইবনে আদম আল-কাওসারি (হাফিযাহুল্লাহ)

আমার মতে (মত দেবার জন্যে আমি কে-ই-বা! তাই যা লিখছি তা কেবল আমার উস্তাদদের বারাকাহর মাধ্যমে), পূর্বের আলিমগণের নারীদের জামাআতে সালাত আদায়কে মাকরুহ বলার মূল কারণ ছিল ‘ফিতনা’র ভয়। ফিতনা অর্থ হলো অনিষ্ট, ক্ষতি, অবক্ষয় এবং সাধারণভাবে শরিয়ার বিধিবিধান মেনে না চলা। প্রায় সকল ক্লাসিক্যাল আলেমগণ বলেছেন যে, অনিষ্ট এবং অবক্ষয় প্রসারের কারণে নারীদের আর জামাআতে সালাতে যাওয়া উচিৎ নয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো নারীদের মসজিদে যেতে বারণ করেননি, বরং তিনি বলেছেন নারীদের মসজিদে যেতে বাঁধা দেওয়া উচিৎ নয়। তাই ফুকাহাগণ সায়্যিদুনা উমর (রা) এবং সায়্যিদাহ আয়েশার (রা) মতামতের ভিত্তিতে হুকুম দিয়েছেন– আর সেটা ছিল অনিষ্ট এবং ক্ষতির ভয়ের ভিত্তিতে।

তাঁরা দেখেছিলেন, তাদের সময়ে অবক্ষয় ব্যাপক প্রসার লাভ করেছিল, ফলে নারীরা ঘরের বাইরে বের হলে খারাপ লোকের দ্বারা ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল। তাঁরা ভয় পেয়েছিলেন যে, যদি নারীদেরকে মসজিদে যেতে উৎসাহিত করা হয়, তাহলে সেটা নারী-পুরুষের হারাম মেলামেশার দরজা খুলে দিতে পারে। তবে মূল কারণ ছিল নারীদের ক্ষতির ভয় করা, যেমনটি ইবনে আবেদিন (র) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘রদ্দুল মুহতার’-এ (এবং অন্যান্য আলেমরাও) উল্লেখ করেছেন। ঠিক এই কারণেই কিছু পূর্বের আলেম বয়স্কা নারীদের ফজর এবং ইশা সালাত আদায়ের অনুমতি দিয়েছেন, কারণ খারাপ ও দুশ্চরিত্রের লোকেরা তখন ঘুমিয়ে থাকত। কেউ কেউ মাগরিবের সালাত আদায়েরও অনুমতি দিয়েছেণ, কারণ তখন খারাপ লোকেরা খাওয়াদাওয়ায় ব্যস্ত থাকত। ইবনে আবেদিন (র) বলেছেন, যদি দুশ্চরিত্রবান লোকদের এই সালাতগুলোর সময়ে ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়, তাহলে উক্ত সালাতগুলোতে যাওয়াও নারীদের জন্যে মাকরুহ হবে (রদ্দুল মুহতার, ১/৫৬৬)।

তাই ফুকাহাগণ কেমন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ফতওয়াগুলো দিয়েছেন- সেটা সবসময় মাথায় রাখা উচিৎ। জীবন তখন ছিলো সহজ-সরল। মুসলিম দেশ এবং সমাজে নারীরা সাধারণত খুব জরুরত ছাড়া ঘর থেকে বের হতেন না। বর্তমানের জটিল দুনিয়ার ন্যায় তাদের সময়ে নারীদের ঘর থেকে বের হবার প্রয়োজন ছিলো না। তাই মুসলিম নারীরা তাদের ঘরের সীমাতেই অবস্থান করতেন। কেবল নির্দিষ্ট কিছু অনিবার্য পরিস্থিতিতে ঘর থেকে বেরোতেন। 

তৎকালীন এই বাস্তবতা মাথায় রাখলে সহজেই বুঝা সম্ভব কেনো পূর্বের আলেমগণ সেরুপ ফতওয়া দিয়েছিলেন। নারীদের প্রায়ই মসজিদে যেতে অনুমতি দিলে, এমন নারীদের বাইরে আসার অনুমতি দেওয়া হতো যারা অন্যথায় বের হতেন না। ফলে, তাঁরা ভয় পেয়েছিলেন- [যেহেতু] মুসলিম নারীরা সাধারণত ঘরের বাইরে বেরোতেন না, ফলে তাদের মসজিদে যাবার অনুমতি এবং উৎসাহ দেওয়া হলে [সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে] খারাপ এবং দুশ্চরিত্রের লোকদের ক্ষতি করার সম্ভাবনা ছিল। 

আমরা যদি এই বাস্তবতাকে বর্তমান সময়ে প্রয়োগ করতে চাই- যেখানে বাজার, শপিং-মল, রাস্তাঘাট- সবখানে নারীরা ছড়িয়ে আছে, তাহলে নারীদের মসজিদে প্রবেশ থেকে পুরোপুরি বারণ করা ন্যায্য মনে হয় না। যেমন এক আল্লাহওয়ালা এবং জ্ঞানী আলেম বলেছিলেন- “নারীদেরকে আমরা আল্লাহর সবচে’ অপছন্দনীয় স্থান তথা ‘বাজারে’ যেতে আপত্তি করি না, কিন্তু তাদের আল্লাহর সবচে’ পছন্দনীয় স্থানে- অর্থাৎ মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে আমাদের চরম আপত্তি!”   .

ফলে নারীদের যখন বাজার, মার্কেট, শপিং মল এবং অনুরূপ জায়গায় যাবার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে (এবং সেটা অনেকক্ষেত্রেই যৌক্তিক কারণে), তাহলে তাদের জন্যে মসজিদের দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা সঠিক মনে হয় না। ক্লাসিক্যাল আলেমদের মতের মূল হিকমা ছিলো ক্ষতি এবং অবক্ষয়ের ভয়, আর অধুনা সময়ে নারীরা (প্রাকটিসিং, নন-প্রাকটিসিং বা অমুসলিম) সবখানে ছড়িয়ে আছে। তাই যদি খারাপ এবং দুশ্চরিত্রের পুরুষরা তাদের ক্ষতি করতে চায়, তাহলে নিশ্চয়ই তাঁরা মসজিদ ব্যতীত অন্যান্য জায়গাগুলো বেছে নেবে। তাছাড়া, আমাদের সময়ে নারীরা সাধারণত মসজিদে যাবার পথে ক্ষতির মুখোমুখি হওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে। 

দ্বিতীয়ত, কখনো কখনো নারীদের মসজিদে যাবার পেছনে সত্যিকারের প্রয়োজন থাকতে পারে। যেমন- সফরের সময়ে যখন সালাতের সময় শেষ হয়ে যেতে থাকে। এমন অনেক কাহিনী ঘটেছে যখন কোনো বোনের সালাত ছুটে যাচ্ছে, কিন্তু মসজিদে সালাত আদায়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। কখনো কখনো আবার নারীদের ইলম শিখতে অথবা ইসলাহি মজলিসে অংশগ্রহণের জন্যে মসজিদে যাওয়া লাগতে পারে, ফলে তাঁর মসজিদে সালাত আদায়ের প্রয়োজন হতে পারে।  

উপরের বিষয়গুলো এবং আমাদের বর্তমান বাস্তবতা মাথায় রেখে, আমি মনে করি নারীদের মসজিদে যাবার ক্ষেত্রে উভয় ধরণের চরম-পন্থা ত্যাগ করা উচিৎ। আমাদের মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা উচিৎ, কারণ “মধ্যমপন্থাই সর্বোত্তম পন্থা”।

কিছু মানুষ নারীদের মসজিদে যাওয়ার সমর্থন ও উৎসাহে বাড়াবাড়ি করতে করতে এমন পর্যায়েও নিয়ে যান যে, ঘরে সালাত আদায় করতে চাওয়া নারীদের তাঁরা মসজিদে সালাত আদায়ের ‘বরকত’ এবং ‘ফায়দা’ থেকে বঞ্চিত মনে করেন। মাঝেমধ্যে দেখা যায়, নারী ও পুরুষ এমন খোলামেলাভাবে মসজিদে সালাত আদায় করছে যাতে শরিয়তের বিধিবিধান মানা হচ্ছে না। হিজাবের বিধিবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং নারী-পুরুষ মসজিদে বেশ খোলামেলাভাবে মেলামেশা করতে আগ্রহী হচ্ছে। তাঁরা মনে করছে তাদের কর্ম নিয়তের উপর নির্ভরশীল, তাই [নিয়ত ভালো হলে] বেঠিক ‘মাধ্যম’ গ্রহণ করাও সমস্যাজনক নয়। কিছু মসজিদে ঈদ এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে দেখা যায়, নারী-পুরুষ ফ্যাশন-শোর মত জামা-কাপড় পরছে। নারীদের সাথে আরও থাকছে মেক-আপ এবং তীব্র পারফিউম।   

বস্তুত সায়্যিদুনা উমর (রা) এবং সায়্যিদা আয়েশা (রা) নারীদের মসজিদে যেতে বারণ করার সময়ে এমন আশংকা করেছিলেন। সবসময় মনে রাখা উচিৎ- ফলাফল ‘মাধ্যম’কে জায়েজ করে ফেলে না। তাই কোনো উত্তম কাজ সম্পাদনের জন্যে মাধ্যমও সঠিক হওয়া জরুরি। নারীপুরুষের খোলামেলা মেলামেশা শরিয়তে নিষিদ্ধ; তাই এমন পরিস্থিতিতে নারীদের মসজিদে যাওয়া জায়েজ হবে না। 

অন্যদিকে, আমরা দেখতে পাই কিছু মানুষ নারীদের মসজিদে যেতে বারণ করার ব্যাপারেও বাড়াবাড়ি করে ফেলেন যে তাঁরা নারীদের সালাত আদায়ের জন্যে কোনো নির্দিষ্ট জায়গাও রাখেন না। যদি কোনো বোন সফর করেন এবং প্রয়োজনে ঘরের বাইরে থাকেন, তখন সালাতের সময় আসলে তিনি কি করবেন? অনেক ক্ষেত্রে বোনেরা সালাত আদায়ের সুযোগের জন্যে মানুষের বাড়িতে নক করতে বাধ্য হন। সেটাও না পেলে তাদের সালাত কাযা করা ছাড়া উপায় থাকে না। এটা আরেকটা বাড়াবাড়ি, যা ত্যাগ করা উচিৎ বলে আমি মনে করি। 

মধ্যমপন্থা হলো, নারীদেরকে নিয়মিত সালাতগুলো ঘরে পরতে উৎসাহিত করা হবে এবং প্রয়োজন ছাড়া অভ্যাস বানিয়ে মসজিদে আসা অনুৎসাহিত করা হবে। একই সাথে, প্রত্যেক মসজিদে নারীদের সালাত আদায়ের জন্যে নির্দিষ্ট জায়গা থাকা উচিৎ, যাতে কোনো বোন সফররত হলে সে ওযু করে সালাত আদায়ের সুযোগ পায় এবং কাযা করতে না হয়। নারীদের মসজিদে আসার ক্ষেত্রে হিজাবের বিধিবিধান মেনে চলার জন্যে অত্যন্ত সতর্কতা নেওয়া উচিৎ, যাতে ফিতনার কোনো ভয় না থাকে। ভাইদের এবং বোনদের জন্যে মসজিদে আলাদা আলাদা প্রবেশপথ থাকা উচিৎ, এবং দুই লিঙ্গের খোলামেলা মেলামেশা থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। বোনদের আরও খেয়াল রাখা উচিৎ যাতে তাদের মসজিদে সালাত আদায় করা ঘরের অন্যান্য দায়িত্ব পালনে বিরত না রাখে। 

আমি মনে করি, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে পশ্চিমা দুনিয়ায় এই মধ্যমপন্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। দিনশেষে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বান্দার উচিৎ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা, নিজের খায়েশ পূরণ করা নয়। তাই, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের নির্দেশের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা কর্তব্য, সেটা নিজের সাথে মিলুক বা না মিলুক। এজন্যে মুসলিম নারীদের বুঝা উচিৎ যে, আল্লাহর কাছে নারীদের ঘরে সালাত আদায় করা পুরুষদের মসজিদে সালাত আদায়ের মতই (ফযিলতপূর্ণ)। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন, আমিন। 

ওয়াল্লাহু আ’লাম।


মূল লেখা

পরিশিষ্ট-১ ক্লাসিক্যাল আলেমদের মতামতঃ

চার মাযহাবের বেশিরভাগ আলেম ‘সাধারণভাবে’ নারীদের ঘরে সালাত আদায় উত্তম বলেছেন, ইবনু হাযম (র) ও অল্প কিছু আলেম ব্যতীত। আবার যেহেতু অধিকাংশ আলেমের মতে বিষয়টি মূলগতভাবে শুধু ‘মুবাহ’ বা ‘জায়েজ’-এর অন্তর্ভুক্ত, তাই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মসজিদে যাবার কারণে যদি নারীর সত্যিকারের ক্ষতি বা হারামে পতিত আশঙ্কা বা ফিতনা থাকে, তবে আলেমগণ বারণ করেন। কারণ ফিকহি মূলনীতি وسيلة حرام حرام অর্থাৎ “হারামের ‘মাধ্যম’ও হারামের হুকুম নেবে।” এটা গেল খাস পরিস্থিতিতে হুকুমের কথা, যাতে আলেমদের বেশি একটা দ্বিমত নেই। এতটুকু আলোচনায় আলেমরা মোটামুটি একমত। তবে এই বিষয়ে, অর্থাৎ নারীদের মসজিদে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে এপ্রোচ কেমন হবে- তা নিয়ে আলিমগণের ভিন্নতা রয়েছে।

  • হাম্বলি আলেমরা সাধারণভাবে আকর্ষণীয় নারীদের ক্ষেত্রে মাকরুহ বলেন, বাকিদের জন্যে জায়েজ বলেন, যদি না কোনো হারাম সংঘটিত হয় [১]।
  • শাফেয়ি আলেমরা তরুণী বা আকর্ষণীয় নারীদের ক্ষেত্রে মাকরুহ বলেন, বাকিদের জন্যে জায়েজ বলেন [২]।
  • মালেকি আলেমরা সাধারণভাবে তরুণী বা বৃদ্ধা উভয়ের জন্যে জায়েজ বলেন যদি ফিতনা বা হারামের আশঙ্কা থেকে মুক্ত এবং অনাকর্ষণীয় কাপড় ও সুগন্ধি ব্যবহার না থাকে [৩]।
  • অন্যদিকে ইমাম আবু হানিফা (র) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তরুণী নারীদের জন্যে মসজিদে যাওয়া মাকরুহ, আর বৃদ্ধা নারীদের জন্যে ইশা ও ফজরের সালাতে যাওয়া জায়েজ। তবে পরবর্তীগণ হানাফিগণ ফিতনা-ফাসাদ বেড়ে যাবার কারণে সকল নারীদের জন্যে মাকরুহ বা মাকরুহে তাহরিমি বলেন [৪]।

পরিশিষ্ট-২ সাম্প্রতিক অন্যান্য কিছু আলিমের মতামতঃ

  • আযহারের প্রয়াত ইমামুল আকবার শায়খ আব্দুল হালিম (র) বলেছেন, বর্তমানে যেহেতু সিনেমা-থিয়েটার নারীদের জন্যে খুলে দেওয়া হয়েছে, মসজিদের দরজাও তাদের জন্যে খোলা উত্তম হবে যাতে হয়ত তাঁরা দ্বীনি কথা শুনে অথবা মসজিদের বারাকাহর মাধ্যমে সঠিক পথের দিশা পেতে পারেন। [৫]
  • জর্ডানের শাফেয়ী ফকিহ শায়েখ ড. আমজাদ রশিদ এবং হানাফি ফকিহ শায়খ ড. সালাহ আবুল হজ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন, অমুসলিম সমাজের প্রেক্ষিতে দ্বীনে চলার পথে সহায়ক হলে নারীদের মসজিদে যাওয়া উত্তমও হতে পারে। [৬]
  • মুফতি মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিমের অধীনে সৌদির পার্মানেন্ট কমিটির ফতওয়ায় বলা হয়েছে- মসজিদে সালাত আদায় করা জায়েজ এবং যখন তাঁরা হিজাব ও অন্যান্য বিধিবিধান মেনে মসজিদে যাবেন, তখন তাঁর স্বামীর বারণ করার অধিকার থাকবে না। [৮]

লেখক পরিচিতিঃ মুফতি ইবনে আদম ইংল্যান্ডে বসবাসরত হানাফি মুফতি। তিনি ইংল্যান্ড, পাকিস্তানে দারুল উলুম করাচি এবং সিরিয়ায় ইলম অর্জন করেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছে শায়খ মুফতি তাকি উসমানি (হাফিযাহুল্লাহ), শায়খ আব্দুর রাযযাক আল-হালাবি (র)-সহ আরও বিভিন্ন প্রখ্যাত আলেম।


[১] আল-রওদুল মুরবি, আল-বুহুতি

[২] উমদাতুস সালিক, ইবনে নকিব আল-মিসরি

[৩] আল-শারহুল কবির, ইমাম দারদির

[৪] আল-মাসাইল মুখলিফাত লি-রস্মিল মুফতি ফি মুখতাসার আল-কুদুরি, ড. সালাহ মুহাম্মাদ আবু আল-হাজ্জ, ফতওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ।

[৫] https://mahdinnm.blogspot.com/2018/04/on-women-and-masjid.html

[৬] https://islamqa.org/shafii/qibla-shafii/33245/women-going-to-the-mosque-2/ ; আল-মাসাইল মুখলিফাত লি-রসমিল মুফতি ফি মুখতাসার আল-কুদুরি, ড. সালাহ মুহাম্মাদ আবু আল-হাজ্জ

[৭] https://www.alifta.gov.sa/En/IftaContents/PermanentCommitee/Pages/FatawaDetails.aspx


অনুবাদ ও সংকলন- ফারশিদ খান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *