মিমার সিনান এবং ভূমিকম্প-প্রতিরোধক স্থাপনা



মিমার সিনান কিভাবে ভুমিকম্প-প্রতিরোধক স্থাপনা তৈরি করেছিলেন?

বিখ্যাত উসমানী (ottoman) আর্কিটেক্ট মিমার সিনান যদি ভুমিকম্প প্রতিরোধ নিশ্চিত করার জন্যে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ না নিতেন, তাহলে আজ লাখো মানুষের উনার চমৎকার কাজগুলোর তারিফ করা সম্ভব হতো না। তাহলে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তিনি কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন? 

অদ্ভুত মিশ্রণ

মিমার সিনান স্থাপনা তৈরিতে এক ধরণের পানি প্রতিরোধক ‘হোরাসান’ মর্টার ব্যবহার করেছিলেন। হোরাসান মর্টার পানি মেশানো লাইম এবং কাঁদা ও বালির সমন্বয়ে এগ্রেগেট (aggregate) থেকে তৈরি করা হয়। কথিত আছে, তিনি উটের ডিমের সাদা অংশ এবং পেঁয়াজের অদ্ভুত সংমিশ্রণের মাধ্যমে শক্তিশালী মর্টার-মিক্সার তৈরি করেছিলেন।

অভাবনীয় টেকনিক!

জাপানিরা সিসমিক আইসোলেটর (seismic isolator: মূল স্থাপনার নিচে ভুমিকম্পের কাঁপুনি হ্রাসের জন্যে ব্যবহার করা হয়) আবিষ্কারের কয়েকশ’ বছর আগেই মিমার সিনান ভুমি ও স্থাপনার মাঝে এক ধরণের শোষক পদার্থ ব্যবহার করেছিলেন, যা অনুরূপ ফলাফল দিতে পারতো।

সময়

তাঁর কাছে স্থাপনা তৈরির প্রতিটি পর্যায়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফাউন্ডেশন তৈরির পর তিনি মূল কন্সট্রাকশন কাজের পূর্বে এক-দুই বছর অপেক্ষা করতেন, যাতে মাটি স্থিতিশীল হয়। দুর্বল মাটি হলে তিনি ভারী পাইলিং-এর মাধ্যমে মাটিকে শক্তিশালী করতেন, যাতে তা প্রয়োজনীয় ভার নিতে পারে। 

ক্ষয় (corrosion) প্রতিরোধ

১৫৫০ সালে সুলেমানিয়া মসজিদ নির্মাণের সময়ে মিমার সিনান নিষ্কাশনের জন্যে টানেল তৈরি করেছিলেন, যাতে ফাউন্ডেশনকে আর্দ্রতা (dampness) থেকে রক্ষা করা যায়।  

ভূমিকম্প স্কেল

মিমার সিনান কয়েকটি মসজিদে নিরাপত্তার নির্দেশক হিসেবে ‘ভূমিকম্প স্কেল’ (earthquake scale) স্থাপন করেছিলেন। একটি ঘূর্ণায়মান কলাম (rotating column) নির্দেশ করতো কম্পনের সময়ে কোনো স্থাপনা ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পেরেছে কি-না। যতক্ষণ কলামটি ঘুরতে পারতো, ততক্ষণ এটাকে নিরাপদ মনে করা হতো। 

শক্তিশালী স্ট্রাকচারাল সিস্টেম

নিখুঁত ক্যালকুলেশনের মাধ্যমে তিনি স্থাপনার ভর উলম্ব এবং অনুভূমিক প্লেনে (Vertical & Horizontal Plane) ভাগ করে দিতেন। বিল্ডিং-এর ভর ফ্রেম এবং পার্শ্ব-দেওয়াল দ্বারা  ফাউন্ডেশনে পৌঁছাতো, আর ডোমের ভর আর্ক (arch) বহন করতো।  

ইতিহাস সংরক্ষণ

নিজের তৈরি নতুন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পূর্বের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো মজবুত করতেও মিমার সিনান কাজ করেছিলেন। আয়াসোফিয়ার চমৎকার ডোমের শক্তি এবং আয়ু বৃদ্ধি করতে স্থাপনার চারপাশে সহায়ক-ব্লক এবং মিনার সংযোগ করা হয়েছিল। 


[TRT World-এ প্রকাশিত পোস্ট অনুসারে লিখিত]

অনুলিখনঃ ফারশিদ খান

Photo: TRT World

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *