আমাদের সময়ের দেবতা

শাইখ ড. হাতেম আল-হাজ

মানুষের জন্য লিবারেলিজম বা  বিজ্ঞানবাদকে(সায়েন্টিজম) আধুনিক দেবতা বলাটা প্রলুব্ধকর। কিন্তু সবসময় গোড়ার কারণটা দেখা উচিত। শির্ক যে শুধুমাত্র মূর্তিপূজাতে সীমাবদ্ধ নয় – রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বপ্রথম এই ধারণা  নিয়ে আসেন। তিনি বলেছেন, “ধ্বংস হোক দীনার ও দিরহামের গোলাম, মখমল ও রেশমের গোলাম।” (বুখারী) 

মূল বিষয় হল, শির্ক মানে আল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী স্থাপন করা যা অন্তরকে তার সম্পূর্ণ একনিষ্ঠতা থেকে বিপথে নিয়ে যায়। আপনি যখনই তার সন্তুষ্টির উপরে কোনকিছুকে প্রাধান্য দেন সেটাই দেবতা হয়ে যায়৷ সুতরাং, অসংখ্য দেবতা রয়েছে। কিন্তু সকল প্রকার শির্কের মূল কারণ নফস অর্থাৎ “আমি”। এমনকি মূর্তিপূজারীদের ক্ষেত্রেও এটা ছিল তাদের নিজেদের স্বার্থ। আল্লাহ বলেন, “তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে মূর্তিগুলোকে উপাস্যরূপে গ্ৰহণ করেছ তোমাদের পারস্পরিক বন্ধুত্বের খাতিরে।” (সামাজিক সম্পর্কের জন্য ধর্ম)

(সূরা আনকাবুত ২৯: ২৫)

প্রত্যেকের তার নিজের নফস ও স্বার্থকে সবসময় সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা উচিত। আমার আরামের পক্ষাবলম্বন করতে গিয়ে আমি সত্যকে উন্মোচন করার জন্য অনুসন্ধান ও গবেষণা করিনি…আমার অহংকার আমাকে ঐ উপদেশ শোনা থেকে বিরত রেখেছিল…আমার লোভ আমাকে ঐ আয়ের উৎসের দিকে এগিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রেখেছিল…আমার যৌনলিপ্সা…আমার গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতির আকাঙ্খা…আমার নফস: “আমি”

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, কোন বান্দা নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদের এই ধাপগুলো পরিপূর্ণ না করে “রব্বানী”(রবের প্রতি পুরোপুরি একনিষ্ঠ) হয় না:

-সত্যকে জানার জন্যে জিহাদ 

-এর উপর আমল করা ও সন্তুষ্ট থাকার জিহাদ 

-এর দিকে দাওয়াতের জিহাদ 

-আল্লাহর জন্য এই পথের কষ্ট ও ক্ষতি সহ্য করার জিহাদ

(যাদুল মাআদ)

মনে রাখা উচিত আমিত্বকে নিষ্পেষণ নয়, উন্নত করাই ইসলাম। আর এর জন্য নফসের বিরুদ্ধে জিহাদই চূড়ান্ত জিহাদ। 

“অবশ্যই সাফল্য লাভ করবে যে পরিশুদ্ধ হয়।”(সূরা আ’লা ৮৭: ১৪)

সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদের উপর এবং সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকূলের রব আল্লাহর জন্য।


ছবির সূত্র: pxhere.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *