ভাষার রহস্য

– ড. ইয়াসির কাদি

আধুনিক বিজ্ঞান বিশেষ করে বিবর্তনমূলক জীববিদ্যার সবচেয়ে বড় রহস্যের একটি হচ্ছে ভাষার উৎপত্তি। বার্নার্ড ক্যাম্পবেল এ বিষয়ে বিখ্যাত লেখকদের একজন। তিনি সোজাসাপ্টা বলে দিয়েছেন, “আমরা আসলে জানি না আর কোনদিন জানবও না কীভাবে বা কখন ভাষার উৎপত্তি হয়েছিল।”

এই বিষয়ের শিক্ষার্থীরা শুরুতেই ছয়টি প্রাথমিক তত্ত্বকে বর্ণনা করার জন্য ব্যবহৃত বিবেচনার অযোগ্য মনে হওয়া পদগুলোর মুখোমুখি হয়। (এগুলো হল বোউ-উউ, পুহ-পুহ, টা-টা, লা-লা, ডিং-ডং, ও ইউ-হে-হু – না, আমি মজা করছি না!) এই সবগুলোকেই পুরোপুরি অনুপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জীবিত সর্বশ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে একজন হলেন নোম চমস্কি। কিন্তু তিনি আসলে ভাষাতত্ত্বে বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি, তিনি প্রস্তাব করেছেন আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে হঠাৎ ও ব্যাখ্যাতীত জিন মিউটেশনের ফলে ভাষার উৎপত্তি ঘটেছে। অর্থাৎ, তিনি বলতে চাচ্ছেন, শুধুমাত্র বিবর্তনমূলক জীববিদ্যার প্রচলিত পদ্ধতিই ভাষাকে ব্যাখ্যা করার একমাত্র পদ্ধতি নয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে ক্রমবর্ধমান মিউটেশন ঘটে ও ধীরে ধীরে বৈশিষ্ট্যের বিবর্তন ঘটে।

যেহেতু কথা বলার ক্ষমতায় অন্য কোনো প্রাণী আমাদের ধারেকাছেও নেই সুতরাং এটা স্পষ্ট যে মানুষ এইক্ষেত্রে বিরলদৃষ্ট এবং মানুষের মধ্যে “কিছু একটা” অবশ্যই ঘটেছে যা অন্য কোন প্রাণীর মধ্যে ঘটেনি। আরেকজন বিশ্ব-বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী স্টিফেন পিঙ্কার যিনি শিশুদের ভাষা অর্জন নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভাষা মানুষের সহজাত। কিন্তু কীভাবে এ সহজাত গুণ আসল তা তিনি ব্যাখ্যা করেননি।

এই সবকিছুর মধ্যে আসল চিত্তাকর্ষক ব্যাপার হল ভাষার কথা কুরআন স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে আদমের উপর আল্লাহ প্রদত্ত এক নেয়ামত হিসেবে। 

“আর তিনি আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিলেন।”

(সূরা বাকারাহ, ৩১)

কুরআন আরো বলে,

“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে তো অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য।”

(সূরা রূম ৩০: ২২)

আসলেই, আমাদের কথা বলার ক্ষমতা ও ভাষার বৈচিত্র্য আমাদের সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের জন্য স্পষ্ট ও বিশদ প্রমাণ। 

আল্লাহ মানবজাতিকে দেয়া তার নেয়ামত উল্লেখ করেছেন,

“আর-রহমান। তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন। তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ। তিনিই তাকে শিখিয়েছেন ভাষা।”

(সূরা রহমান ৫৫: ১-৪)

আধুনিক বিজ্ঞান দিয়ে ভাষাকে ব্যাখ্যা করা যাবে না। কারণ এটা সকল সৃষ্টিজগতের মাঝে আমাদের এবং শুধু আমাদের দেয়া আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত। 

“কাজেই তোমরা উভয়ে (মানুষ ও জ্বিন) তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?”(সূরা রহমান)


লেখাটি উনার ফেসবুক পোস্ট থেকে অনূদিত।

মূল লেখা: Yasir Qadhi – The Mystery of Language | Facebook

অনুবাদ- ওসমান হারুন সানি

Photo: Arabic Calligraphy Vectors by Vecteezy

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *